দেশপ্রেম – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download

দেশপ্রেম – শফিউদ্দিন সরদার – ফ্রি পিডিএফ ডাউনলোড – Free PDF Download এই বইটি ডাউনলোড করে নিন এখনি। আরো নতুন নতুন বই পেতে ভিজিট করুন আমাদের বই লাইব্রেরি।

মহান আল্লাহ বলেন –

পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন

আল কুরআন

জগতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক জমানায়, প্রত্যেক সময়ে কিছু মানুষ এমন ছিল যারা অজানাকে জানতে চেয়েছে, বুঝতে চেয়েছে। অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছে বিশ্বজগতের গূঢ় রহস্য, অবলোকন করেছে পরম বিস্ময়ের সাথে মহাকাশের লীলাখেলা। এই মানুষগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি এবং এত সুন্দর কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের সোপান বেয়ে তরতর করে। এই পথচলার মাঝেই আরেকটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের এই ওয়েবসাইট। এখানে বাংলাভাষায় এবং অন্যান্য সকল ভাষায় পরবর্তীতে সর্বাধিক বইয়ের লাইব্রেরি করার ইচ্ছা আমাদের রয়েছে। বারবার এই সাইট বন্ধ হয়েছে, অন্য নামে আবার এসেছে, আসবে। এইজন্যে আপনাদের সাপোর্ট প্রয়োজন। আপনারা প্রতিনিয়ত সাইটে ভিজিট করে যাবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের জানাবেন কোনো সমস্যা থাকলে।

বইটি সম্পর্কেঃ

অনুবাদঃ শফিউদ্দিন সরদার

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৯৪

দেশপ্রেম – বইটির এক ঝলকঃ

টিপু মিয়া লায়লা বানুর একদম কাছে আসা সত্ত্বেও লায়লা বানু কথা বললো না বা মাথা তুললো না দেখে টিপু মিয়া প্রশ্ন করলো – কি ব্যাপার লায়লা, কি হয়েছে তোমার?
লায়লা বানু তবু নীরব। টিপু মিয়া ফের প্রশ্ন করলো- আরে, তোমাকে এত বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন? মাথার চুল, পোশাক-আশাক এমন এলোমেলো কি কারণে?
এবার মুখ খুললো লায়লা বানু। ক্ষোভের সাথে সংক্ষেপে বললো- আনন্দে।
আনন্দে সেকি! হঠাৎ আনন্দ হলো কি কারণে?
: “আমার প্রাণনাথ আজনের বাড়ী যায়, আমার আঙ্গিনা দিয়ে ঘাঁটা”! আনন্দ হবে না ? এমনটি হলে কার না আনন্দ হয়?
ខ তাজ্জব! এতে আনন্দ হয়?
হয় গো সাহেব, হয়। কথায় বলে না, ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর’? শোক অধিক হলে দুঃখের বদলে মানুষের আনন্দই হয়। আমার তাই হয়েছে।
লায়লা বানু !
: আপনার অনুভূতি আর আমার অনুভূতি এক নয়। দুঃখে আমার চোখ মুখ মলিন হয়। কিন্তু আপনার বেলা, দুঃখে আপনার কণ্ঠ থেকে গান বেরোয়, তা ইসলামিকই হোক আর আধুনিকই হোক। আনন্দে চোখ মুখ ঝলমল করে।
: আনন্দ! আমার আনন্দ মানে?
: আনন্দ বৈইকি? খবরটা নিশ্চয়ই পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পরও
আপনার মনে আনন্দ দেখে মনে হচ্ছে, দুঃখ আপনাকে একটুও স্পর্শ করেনি। খবরটা আপনার কাছে মস্তবড় সুখবর।
: সুখবর!
ঃ হ্যাঁ, সুখবরই তো। সুখবর না হলে কি আমার কাছে এসে আপনি খোশ-কণ্ঠে এমন খুশীর গান গাইতে পারেন? দুঃখের গান বেরোনোর কথা ছিল আপনার কণ্ঠ থেকে।
: দুঃখের গান?
একশো বার দুঃখের গান। আমার কাছে এসে আপনার বরং দুঃখে গাওয়া উচিত ছিল— ঐ যে গ্রাম্য পালাগানে গায়-
“আমার আশা ছাড়ো। জ্যোৎস্না গো,
ও জ্যোৎস্না ছাড়ো আমার আশা গো” – এই গান।
: আশ্চর্য! তুমি এসব কি বলছো লায়লা?
ঃ উপমা দিতেই এই গানটার কথা বলতে হলো। আমাকে তো কম ভাল বাসতেন না আপনি! প্রাণ ঢেলে ভালবাসতেন। সেই আমাকে ত্যাগ করতে এমন গানই আপনার গলা দিয়ে বেরোনো উচিত ছিল।
বিস্ময়ের সীমা অবধি রইলো না আবদুল্লাহ আমিন টিপুর। সে যারপরনাই বিস্মিত হয়ে বললো – সে কি! তুমি কি পাগল হলে? তোমাকে ত্যাগ করতে মানে? তোমাকে ত্যাগ করার প্রশ্ন এলো কোত্থেকে ?
লায়লা বানু বললো—আমাকে বাদ দিয়ে আর একজনকে শাদি করছেন আপনি, তবু আমাকে ত্যাগ করার প্রশ্ন এলো না ?
: কি গজব – কি গজব ! আর একজনকে শাদি করছি কি রকম? কাকে শাদি করছি?
8 আপনার গ্রামাঞ্চলে এলাকার ঐ সেরা সুন্দরী মেয়েকে! যোগাড়- যজ্ঞর, আনযাম – আয়োজন সব সম্পন্ন।
মার কাটারী! এমন উদ্ভট খবর তুমি পেলে কোথায়?
যেখানে থেকে আপনি পেয়েছেন, সেখান থেকে ।
ঃ আমি পেয়েছি!
ঃ পেয়েছেনই তো। আমি পেয়েছি আর আপনি পান নি? : তুমি পেয়েছো? তুমি পেলে কার কাছে?
ঃ আপনার এক অভিভাবকের কাছে। গতকাল তিনি এখানে এসেছিলেন তো! আগামীকাল আবার আসবেন, তা বলে গেলেন ।
: কি আশ্চর্য! আমার এক অভিভাবক এখানে এসেছিলন!
: জি।
কেন এসেছিলেন?
ঃ আপনার সই-স্বাক্ষর, ছবি-এসব নিতে। শাদির তারিখটাও ঠিক করতে। শাদির কার্ড ছাপাতে এসব লাগবে তো ।
ঃ উনারা আমার শাদির কার্ড ছাপাবেন?
ঃ অতি সত্ত্বর ছাপাবেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা পড়েছেন যে, শাদিটা অতি সত্ত্বর সম্পন্ন করতে গিয়ে, তাঁদের নিদ্ ঘুম সব হারাম হয়ে গেছে।
ঃ তাঁরা মরুক। তাতে আমার কি?
: বাহ! আপনার শাদি আর আপনি বলছেন, আমার কি?
ও আমার বয়ে গেছে ঐ মেয়েকে শাদি করতে।
বয়ে গেছে নয়, ঐ মেয়েকে শাদি করতে আপনি বাধ্য ।
: অর্থাৎ?
: ঐ মেয়ের সাথে আপনার শাদি দেয়া নিয়ে আপনাদের এলাকায় উনারা এমনই মাতামাতি করেছেন যে, এখন আপনি “না” করলে ঐ এলাকায় আপনি মুখ দেখাতে পারবেন না। আপনার সুনাম, সুখ্যাতি, আপনার প্রতি ঐ এলাকার মানুষের শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সব মিমার হয়ে যাবে।
ঃ তা গেলে আর কি করা যাবে। আমার বিনাদোষে তা যদি যায়, যাক্ আপনার আত্মীয়স্বজন, অভিভাবকগণ, সকলেই আপনার সাথে সম্পর্ক ছেদ করবেন।
: তা করে করুক। হাউসেই তারা যদি তা করে, তাতে আমার কি?
ঃ আপনারই তো সব। আপনার কি মানে? আপনিই তো ঘটনার মূল চরিত্র। আপনি দায় এড়াবেন কি করে?
: অর্থাৎ
:ঐ মেয়ের সাথে আপনার শাদি দেয়া নিয়ে আপনার অভিভাবকেরা এত অধিক দিন ধরে এত বেশি আলাপ-আলোচনা, মাখামাখি ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন যে, আপনি এখন শাদি করতে অস্বীকার করলে, ঐ মেয়েকে শাদি করতে অন্য কেউই আর রাজী হবে না সহজে।
ঃনা হোক, তাতে আমার কি এসে যায়?
ঃ আপনারই এসে যায় সব চেয়ে বেশি। কারণ আপনার অভিভাবকেরা আর আত্মীয়স্বজনেরা আপনার রূপগুণের কথা ঐ মেয়ের কাছে এতবার আর এত বেশি করে তুলে ধরেছেন যে, মেয়েটা এখন আপনাকে শাদি করার জন্যে পাগল হয়ে গেছে। তর সইছে না তার । মনে প্রাণে আপনাকে সে স্বামী বলে গ্রহণ করেই ফেলেছে।
তো?
8 তো বুঝতে পারছেন না? এই মুহূর্তে হঠাৎ তাকে শাদি করতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে হার্টফেল করে মারা যাবে । হার্টফেল করে মারা যাবে?
ঃ হার্টফেল না করলেও সে আত্মঘাতী হবে। আপনার যে অভিভাবক এখানে এসেছিলেন, তাঁর কথা শুনেই বুঝতে পারলাম, মেয়েটা সুইসাইড করবে। আত্মহত্যা করবে সে নির্ঘাত।
ঃ লায়লা বানু।
ঃ আর মেয়েটার এই আত্মহত্যার দায় এসে পড়বে আপনাদের সকলের ঘাড়ে। অতিমাত্রায় উস্কানি আর উৎসাহ দেয়ার দায়ে আপনার অভিভাবক আর আত্মীয়স্বজনদের জেল হবে, জরিমানা হবে, কারো কারো ফাঁসিও হতে পারে।
ঃ সর্বনাশ! একি আজগুবি ফ্যাসাদ।
ঃ আজগুবি ফ্যাসাদ?
ঃ তাই বৈকি? আমাকে না বলে, না জানিয়ে খামাখা তারা এসব কাণ্ড
ঘটালে, যেমন কর্ম তেমন ফল ভোগ করবে তারা। আমার তাতে কি?
ঃ আপনি বাদ যেতে পারবেন না। আপনি শাদিতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্যেই মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে— এই প্রশ্নই উঠে আসবে সর্বাগ্রে। এতে করে এই খুনের এক নম্বর আসামি হবেন আপনি। ফলে ফাঁসি না হলেও, আপনার দীর্ঘদিন কারাদণ্ড হবেই। জেলা খাটবেন আপনি । আপনার পড়াশুনা, কেরিয়ার – সব রসাতলে যাবে।
: লায়লা বানু !
ঃ আপনার ঐ অভিভাবকের কথাবার্তায় যা বুঝলাম, তাতে মেয়েটা আত্মঘাতী হবেই আর সে ক্ষেত্রে তারা আপনাকে এক নম্বর আসামি বানাবেই ।
· ওরে বাপরে। আমি তাহলে কি করবো এখন?
: করার আর কিছু নেই। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ঐ মেয়েকেই শাদি করতে হবে আপনাকে। আপনার পালাবার আর পথ নেই ।
তোমাকে ফেলে শাদি করবো ঐ মেয়েকে?
: নইলে ফাটক খাটবেন ।
তাহলে তোমার কি হবে ?
আমার নসীবে যা আছে তাই হবে।
তোমার নসীবে ?
: হ্যাঁ, নসীবে । আপনার শোকে কেঁদে কেঁদে মরেই যাবো আমি। : মরেই যাবে?
: তাই তো যাওয়ার কথা। আমারও আত্মঘাতী হওয়ারই কথা। কিন্তু
আমার আব্বা আম্মারা তা হতে দিচ্ছেন বলেই আমার নসীব আমাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে।
: অর্থাৎ
আমাদের এই মহল্লাতেই একজন সদ্যপাস উকিল আছে। আমার আব্বা তার সাথেই আমার শাদির ব্যবস্থা করেছেন।
সে কি! তার সাথে?

বইটি ডাউনলোড করে নিন নিচের দেয়া লিঙ্ক থেকে এবং পড়ে নিন সহজেই। লিঙ্কে ক্লিক করে ডাউনলোড করতে না পারলে আমাদের জানিয়ে দিন। ফিক্স করে দেয়া হবে। অথবা নিচে কমেন্ট করুন কেমন লাগলো বইটি!

বই পড়া অনেকের জন্য নেশা, অনেকের জন্য পরম ভালোবাসার একটি বস্তু। এই বইকে আমরা সহজলভ্য এবং সহজে পাওয়ার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছি, তাই আমাদের সাইট আমরা ডিজাইন করেছি ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস বজায় রেখে। সাইটের কোনো ধরনের ইস্যু নিয়ে কোনো মতামত থাকলে জানাতে পারেন, এবং বই এর জন্যে রিকুয়েস্ট করতে পারেন উপরে বাটন দেয়া আছে নিচেও লিঙ্ক দেয়া আছে। সর্বোপরি সকলের সহযোগিতা কাম্য সাইট চালাতে হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা সকলেই বই পড়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top