সকল বই (Library)
উত্তর ফাল্গুনী - নীহাররঞ্জন গুপ্ত (Uttar Falguni by Niharranjan Gupta) – নীহাররঞ্জন গুপ্ত বইয়ের প্রচ্ছদ

উত্তর ফাল্গুনী - নীহাররঞ্জন গুপ্ত (Uttar Falguni by Niharranjan Gupta)

লেখক: নীহাররঞ্জন গুপ্ত

ডাউনলোড করুন
লেখকনীহাররঞ্জন গুপ্ত
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীমিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
প্রকাশ সাল1963
পৃষ্ঠা184 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

এক নারীর জীবনের চরম আত্মত্যাগ ও গভীর মাতৃত্ববোধের মর্মস্পর্শী আখ্যান।
দেবযানী থেকে বাঈজী পান্নাবাই হয়ে ওঠার করুণ ও সংঘাতময় জীবনকাহিনী।
মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য নিজের পরিচয় বিসর্জন দেওয়ার এক অনন্য নজির।
কালজয়ী সিনেমা হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার মতো নাটকীয়তা ও আবেগের মেলবন্ধন।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

ভাগ্য মানুষকে কত কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে, আর মাতৃত্বের টান কতটা গভীর হতে পারে—তার এক অশ্রুসজল দলিল নীহাররঞ্জন গুপ্তের 'উত্তর ফাল্গুনী'। এক বাঈজীর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা মমতাময়ী মায়ের করুণ লড়াইয়ের গল্প।

বই সম্পর্কে

'উত্তর ফাল্গুনী' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক নীহাররঞ্জন গুপ্তের একটি অনন্য সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এতে তুলে ধরা হয়েছে পারিবারিক অত্যাচার ও সামাজিক বঞ্চনার শিকার এক নারীর জীবনের করুণ ট্র্যাজেডি। দেবযানী নামের এক শান্ত ও শালীন মেয়ে ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে রূপ নেয় লক্ষ্ণৌয়ের বিখ্যাত বাঈজী পান্নাবাইয়ে। কিন্তু পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার করলেও তার হৃদয়ের মাতৃত্ববোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ কখনো ম্লান হয়নি।

নিজের একমাত্র কন্যাসন্তান সুপর্ণাকে কলুষিত পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে এবং সমাজে একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেবযানী নিজের পরিচয় পর্যন্ত গোপন রাখেন। কন্যার ভবিষ্যতের খাতিরে নিজের আজন্মের আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। সমাজের দ্বিচারিতা এবং শ্রেণিভেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রচিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের এক চিরসবুজ সম্পদ।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

নীহাররঞ্জন গুপ্ত মূলত তাঁর গোয়েন্দা কাহিনীর জন্য সমধিক পরিচিত হলেও, মানবিক আবেগ এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা যে কতখানি গভীর, 'উত্তর ফাল্গুনী' তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। উপন্যাসের প্রতিটি বাঁকে রয়েছে তীব্র নাটকীয়তা, টানটান আবেগ এবং সামাজিক সংকটের বাস্তব চিত্রায়ন। দেবযানী ও মনীশ রায়ের অসম্পূর্ণ প্রেমের ব্যথা এবং সুপর্ণার প্রতি মায়ের গোপন অথচ অবিচল টান পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

বইটির ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং বর্ণনাভঙ্গি জীবন্ত। প্রতিটি চরিত্রের সংলাপে রয়েছে বাস্তবতার ছোঁয়া। যারা কেবল রোমাঞ্চ নয়, গভীর অনুভূতির সামাজিক উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই উপন্যাসটি এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি অবশ্যপাঠ্য ক্লাসিক গ্রন্থ।

মূল বিষয়

মাতৃত্বের চরম আত্মত্যাগ, সামাজিক সংঘাত এবং নিষ্কাম প্রেম

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

দেবযানী / পান্নাবাই: কেন্দ্রীয় চরিত্র; ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বাঈজী হতে বাধ্য হলেও যিনি কন্যার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেন।

সুResource / সুপর্ণা: দেবযানীর কন্যা, যাকে মানুষ করতে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে মা নিজের আত্মপরিচয় গোপন রাখেন।

মনীশ রায়: দেবযানীর প্রাক্তন প্রেমিক ও ব্যারিস্টার, যিনি পরবর্তীকালে সুপর্ণার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে