
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
ভাগীরথীর তীরে উদ্ধারণপুরের শ্মশানঘাট কেবল মৃতদেহের শেষ আশ্রয় নয়, সেখানে প্রতিদিন রচিত হয় জীবনের বিচিত্র আখ্যান। অবধূতের চোখে ধরা পড়েছে সেই রক্তমাংসের সত্য।
বই সম্পর্কে
‘উদ্ধারণপুরের ঘাট’ বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় ও অনন্য সৃষ্টি। তান্ত্রিক সন্ন্যাসী কালিকানন্দ অবধূত তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির মিশেলে রচনা করেছেন এই ধ্রুপদী উপন্যাসটি। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন উদ্ধারণপুর শ্মশানঘাটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এর গল্প। মৃত্যুর নিস্তব্ধতা এবং চিতার লেলিহান শিখার মাঝে লেখক খুঁজে ফিরেছেন জীবনের গভীরতম সত্য ও মানবিক সম্পর্কগুলোকে।
বইটিতে শ্মশানঘাটের তান্ত্রিক সাধনা, অলৌকিক বিশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের জাগতিক কামনা-বাসনা ও দুঃখ-বেদনার অসাধারণ এক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। লেখকের প্রাঞ্জল ও টানটান ভাষার কারণে তৎকালীন গ্রামীণ সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারের অন্ধ কুঠুরিগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। বাংলা কথাসাহিত্যে এমন ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপটের উপন্যাস অত্যন্ত বিরল।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
কালিকানন্দ অবধূতের ‘উদ্ধারণপুরের ঘাট’ পাঠ করা এক ব্যতিক্রমী মানসিক ও আত্মিক অভিজ্ঞতা। বইটির পরতে পরতে যেমন রয়েছে শ্মশানজীবনের ভয়ংকর বাস্তবতা, তেমনি রয়েছে অন্তহীন মানবিক মমত্ববোধ। লেখক কোনো অতিপ্রাকৃত রহস্য সৃষ্টির সস্তা চেষ্টা না করে মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং সমাজ বাস্তবতাকে শাণিত লেখনীতে উন্মোচন করেছেন।
উপন্যাসটির ভাষাভঙ্গি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সাবলীল। অবধূতের দৃষ্টিতে মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং জীবনের বহুমাত্রিক স্বরূপ চেনার একটি মাধ্যম। বাংলা সাহিত্যের সিরিয়াস পাঠক এবং যারা চিরাচরিত ছকের বাইরের গল্প ভালোবাসেন, তাদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।
মূল বিষয়
শ্মশানঘাটকে কেন্দ্র করে জীবনের নশ্বরতা, তান্ত্রিক সাধনা এবং মানব মনের বিচিত্র রূপের বাস্তব চিত্রায়ন
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
অবধূত (কথক): স্বয়ং লেখক, যিনি শ্মশানের সন্ন্যাসী ও পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন
শ্মশানের সাধু ও তান্ত্রিকগণ: গুপ্ত সাধনমার্গের বিচিত্র চরিত্রের মানুষ
নানা স্তরের সাধারণ মানুষ: শ্মশানঘাটে আসা স্বজনহারা মানুষ ও প্রান্তিক জীবিকাধারীরা
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





