
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে ভিটাতে কোনো গৃহস্থ টিকতে পারেনি, সেই 'সূর্য দীঘল বাড়ী'তে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজে নিঃস্ব জয়গুন। কিন্তু কুসংস্কার আর শোষণের শেকল কি তাকে শান্তিতে বাঁচতে দেবে?
বই সম্পর্কে
‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ আবু ইসহাক রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাস্তবধর্মী সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এই কালজয়ী উপন্যাসে লেখক তুলে ধরেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ মন্বন্তর এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলার গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘায়িত ঘর বা 'সূর্য দীঘল বাড়ী' অপয়া এবং সেখানে মানুষ টিকতে পারে না। চরম দারিদ্র্য ও আশ্রয়হীনতায় বাধ্য হয়ে স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুন সেই ভিটেতেই সন্তানদের নিয়ে বসবাস শুরু করে।
উপন্যাসটিতে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং শোষক শ্রেণির নিষ্ঠুরতার বিপরীতে একজন সাধারণ নারীর টিকে থাকার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে। সমাজ ও প্রকৃতির শত প্রতিকূলতার মুখেও জয়গুনের হার না মানা মনোভাব বাঙালি সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্রামীণ জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ও নিখুঁত ভাষার ব্যবহার উপন্যাসটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
আবু ইসহাকের ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল, বাস্তবমুখী এবং মাটির গন্ধযুক্ত। লেখক অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে গ্রামীণ সমাজের অচলায়তন, লোভী মাতব্বরদের চরিত্র এবং নারীদের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপকে উন্মোচিত করেছেন।
জয়গুন চরিত্রটি কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং সমগ্র বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত প্রতিরোধ। উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বাঁচার আকুতি জীবন্ত হয়ে উঠেছে। যারা বাংলা ধ্রুপদী সাহিত্য এবং সমাজের বাস্তব চিত্র পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্য পাঠ্য বই।
মূল বিষয়
গ্রামীণ কুসংস্কার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ও দেশভাগ পরবর্তী দুর্ভিক্ষ, সামাজিক শোষণ ও নারীর টিকে থাকার সংগ্রাম
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
জয়গুন: উপন্যাসের মূল চরিত্র; দুই সন্তানের মা, যে জীবনের সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকে।
হাসু: জয়গুনের বড় ছেলে, মায়ের সংগ্রামে সহযাত্রী।
মায়মুন: জয়গুনের ছোট মেয়ে।
করিম বক্স: জয়গুনের প্রাক্তন স্বামী।
গদু প্রধান: গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর ও শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





