
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
‘সুলতান’ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই রচিত একটি অনন্য জীবনীভিত্তিক উপন্যাস। বাংলার মাটি ও মানুষের অকৃত্রিম শিল্পী এস এম সুলতানের বর্ণাঢ্য ও অদ্ভুত জীবনের বাস্তব চিত্র এতে নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বই সম্পর্কে
হাসনাত আবদুল হাই রচিত ‘সুলতান’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য সৃষ্টি। এটি কেবল একটি সাধারণ উপন্যাস নয়, বরং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শেখ মোহাম্মদ সুলতান (এস এম সুলতান)-এর জীবন ও সাধনার ওপর ভিত্তি করে রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনীভিত্তিক আখ্যান। সুলতানের মতো একজন অনন্য ও অসামান্য শিল্পীর অন্তর্জগৎ ও বাহ্যিক বোহেমিয়ান জীবনের প্রতিচ্ছবি এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অত্যন্ত মমতার সঙ্গে।
উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে নড়াইলের এক সাধারণ দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশু 'লাল মিয়া' প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে বড় হয়ে ওঠেন এবং নিজের অসাধারণ চিত্রকর্মের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নন্দিত হন। মেঠো মানুষের শক্তি, বাংলার কৃষকদের বলিষ্ঠ শারীরিক গঠন এবং প্রকৃতির প্রতি সুলতানের গভীর প্রেমকে লেখক অসাধারণ সাহিত্যিক দক্ষতায় জীবন্ত করে তুলেছেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
হাসনাত আবদুল হাইয়ের জীবনীভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে ‘সুলতান’ অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি কাজ। লেখক সুলতানের জীবনকে খুব কাছ থেকে অবলোকন করেছেন এবং প্রামাণ্য তথ্যের সাথে উপন্যাসের কল্পনার চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। সুলতানের সৃষ্টিশীলতা, খামখেয়ালীপনা এবং প্রকৃতির সাথে তাঁর নিবিড় সংযোগের যে বয়ান এ বইয়ে রয়েছে, তা পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
উপন্যাসের ভাষা সাবলীল ও বর্ণনামূলক। বইটির প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে পাঠকের চোখে ভেসে ওঠে চিত্রশিল্পীর তুলির আঁচড় এবং তাঁর সৃষ্টি করা পৃথিবীর রূপ। যারা চিত্রকলা, এস এম সুলতানের জীবন এবং উচ্চমানের বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁদের জন্য ‘সুলতান’ উপন্যাসটি অবশ্যই পাঠ্য।
মূল বিষয়
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবন, শিল্পদর্শন ও আত্মিক সাধনা
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
এস এম সুলতান (শেখ মোহাম্মদ সুলতান): উপন্যাসের মূল চরিত্র, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও বোহেমিয়ান ব্যক্তিত্ব
মেছের আলী: সুলতানের পিতা, একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রি
শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী: রাজনীতিবিদ ও শিল্পবোদ্ধা যিনি সুলতানের প্রতিভার বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় সহায়তা করেন
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





