
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
'সংশপ্তক' শহীদুল্লা কায়সারের এক অমর সৃষ্টি, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর অবিভক্ত বাংলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের প্রথম দশক পর্যন্ত বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক মহাকাব্যিক আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
বই সম্পর্কে
শহীদুল্লা কায়সারের 'সংশপ্তক' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক-রাজনৈতিক উপন্যাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কাল থেকে শুরু করে দেশভাগ এবং পরবর্তী পূর্ব বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এই উপন্যাসের মূল ভিত্তি। উপন্যাসটিতে বাঁশখালি গ্রামের পটভূমিতে সামন্ততান্ত্রিক শোষণের অবক্ষয় এবং শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
'সংশপ্তক' শব্দের অর্থ যে যোদ্ধা যুদ্ধে জয় অথবা মৃত্যু—এই দুইয়ের একটি বেছে নেয়। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেঁচে থাকার ও টিকে থাকার এক নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত। লেখক অত্যন্ত গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ কুসংস্কার, দাঙ্গা, রাজনৈতিক বিভাজন ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে একই সুতোয় গেঁথেছেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
'সংশপ্তক' কেবল একটি গল্প নয়, এটি তৎকালীন বাঙালি সমাজের একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। শহীদুল্লা কায়সার অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় তৎকালীন সমাজবাস্তবতা ও মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাগুলো উন্মোচন করেছেন। উপন্যাসের মালু, জাহেদ, রাবু এবং হুরমতির চরিত্রগুলো এতোটাই বাস্তবধর্মী যে পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে।
বিশেষ করে ভাষা ও সংলাপের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও অঞ্চলভিত্তিক খাঁটি বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। যারা বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী উপন্যাস ভালোবাসেন এবং বাঙালির সামাজিক রূপান্তরের ইতিহাস সাহিত্যের মাধ্যমে জানতে চান, তাদের জন্য 'সংশপ্তক' একটি অবশ্য পাঠ্য বই।
মূল বিষয়
সামাজিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, শোষণ এবং মানুষের জীবন সংগ্রামের মহাকাব্যিক চিত্রায়ন
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
মালু: উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র, যে গ্রাম থেকে শহরে এসে জীবনের বাস্তবতা ও সামাজিক সংগ্রামের মুখোমুখি হয়।
জাহেদ: আদর্শবাদী ও রাজনৈতিক সচেতন তরুণ, যিনি শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নে কাজ করেন।
রাবু: সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা এক বলিষ্ঠ নারী চরিত্র।
ফেলু মিয়া: গ্রামীণ মাতব্বর ও শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি।
হুরমতি: প্রান্তিক নারী চরিত্র, যে শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





