
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
নিঝুম রাতের আঁধারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বহু প্রাচীন অট্টালিকা যেন কোনো অচেনা অতীতের নীরব সাক্ষী। বন্ধ ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে ভেসে আসা রহস্যময় আলো কি কোনো অতৃপ্ত আত্মার ইঙ্গিত, নাকি কোনো ধূর্ত অপরাধীর চক্রান্ত?
বই সম্পর্কে
বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম রসসাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীর এক অনবদ্য রোমাঞ্চকর সৃষ্টি 'রহস্যময় অট্টালিকা'। শিবরাম চক্রবর্তী মূলত হাসির গল্পের স্রষ্টা হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও রহস্য, রোমাঞ্চ এবং গোয়েন্দা কাহিনী রচনায় তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। এই উপন্যাসে তিনি একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত প্রাসাদের গা-ছমছমে পরিবেশকে অসাধারণ দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
কাহিনীতে দেখা যায়, লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা প্রাচীন অট্টালিকাকে ঘিরে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস সেখানে ভৌতিক শক্তির বাস, কিন্তু বাস্তববাদী একদল তরুণ ঘটনাটির গভীরে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু হয় ছায়াময় করিডোর ধরে সত্য আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর অভিযান, যেখানে পদে পদে অপেক্ষা করছে অপ্রত্যাশিত বিপদ এবং চমক।
কিশোর এবং পরিণত যেকোনো বয়সী পাঠকের জন্য বইটি অত্যন্ত উপভোগ্য। জটিল শব্দের ভার এড়িয়ে সহজ-সরল অথচ দারুণ গতিশীল ভাষায় শিবরামবাবু গল্পটিকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যা পাঠককে প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ধরে রাখতে বাধ্য করে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
শিবরাম চক্রবর্তীর কলম মানেই অনন্য মেজাজ। 'রহস্যময় অট্টালিকা' কেবল সাধারণ রহস্য কাহিনী নয়, এতে লেখকের নিজস্ব মেজাজ ও রসবোধের সূক্ষ্ম ছাপ স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ভয় ও হাসির এই অপূর্ব রসায়ন বইটিকে অন্য ধারার এক অনন্য সাহিত্যকর্মে পরিণত করেছে।
উপন্যাসের পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং চমৎকার। পুরোনো প্রাসাদের ধুলোবালি, মরচে ধরা লোহার ফটক আর অন্ধকার সিঁড়ির যে বর্ণনা লেখক দিয়েছেন, তা পড়ার সাথে সাথে পাঠকের চোখের সামনে দৃশ্যপটের মতো ভেসে ওঠে। কাহিনীর গতিও বেশ দ্রুত, কোথাও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘায়িত মনে হয় না।
যাঁরা ক্লাসিক বাংলা রহস্য উপন্যাস ভালোবাসেন এবং শিবরাম চক্রবর্তীর বহুমুখী প্রতিভার আস্বাদ পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই। অবসর সময়ে অনাবিল আনন্দের খোরাক জোগাতে এই উপন্যাসটি অনবদ্য।
মূল বিষয়
রহস্য, রোমাঞ্চ ও প্রাচীন প্রাসাদের অজানা ইতিবৃত্ত
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
সুশান্ত: সাহসী ও অনুসন্ধিৎসু তরুণ, যে রহস্য উন্মোচনে নেতৃত্ব দেয়।
অসীম: সুশান্তর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যে পরিস্থিতি সহজ করতে হাস্যরসের জোগান দেয়।
প্রাসাদ প্রহরী: অট্টালিকার পুরোনো তত্ত্বাবধায়ক, যার কাছে লুকিয়ে রয়েছে বহু অজানা ইতিহাস।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





