
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
ইট-কাঠ-পাথরের খাঁচায় বন্দি নাগরিক জীবনে এক টুকরো সবুজ ও একঝাঁক মুক্ত ডানার পাখির স্পর্শ নিয়ে আহমদ ছফার এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি 'পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ'—যেখানে প্রাণ ও প্রকৃতির আলাপন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
বই সম্পর্কে
'পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ' প্রথাবিরোধী ও স্পষ্টভাষী লেখক আহমদ ছফার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী আত্মজৈবনিক উপন্যাস। নাগরিক কোলাহল আর নিঃসঙ্গতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে লেখক কীভাবে তাঁর বারান্দা ও ছাদবাগানে এক টুকরো সবুজ প্রকৃতি এবং পাখিদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিলেন, তারই এক মনোমুগ্ধকর উপাখ্যান এই বইটিতে বিধৃত হয়েছে।
উপন্যাসটিতে কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যই তুলে ধরা হয়নি, বরং প্রতিটি গাছ এবং পাখির সঙ্গে মানুষের যে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক যোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে, তা চমৎকার সংবেদনশীলতায় উন্মোচন করা হয়েছে। লেখকের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ নিবিড় এবং অনুভূতির গভীরতায় ঋদ্ধ, যা পাঠককে আধুনিক যন্ত্রজীবনের বাইরে এক নির্মল প্রশান্তি এনে দেয়।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
আহমদ ছফার অন্যান্য তীব্র রাজনৈতিক বা সামাজিক উপন্যাসের চেয়ে 'পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ' অনেকটাই ভিন্নধর্মী ও স্নিগ্ধ। এই বইয়ে ছফাকে পাওয়া যায় একজন কোমল হৃদয়ের প্রকৃতিপ্রেমী ও অনুভূতিপ্রবণ মানুষ হিসেবে। তিনি যেভাবে একটি গাছের ফুল ফোটার আনন্দ বা পাখির ডানা ঝাপটানোর বেদনার বর্ণনা দিয়েছেন, তা যেকোনো সংবেদনশীল পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে।
বইটির ভাষা অত্যন্ত সহজ, প্রাঞ্জল অথচ গভীর দর্শনে সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতি, গাছপালা এবং পাখির সঙ্গে মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এমন নিখাদ চিত্র বিরল। প্রকৃতিপ্রেমী এবং সাহিত্যের রসগ্রাহী পাঠকদের জন্য এই বইটি এক পরম পাওয়া।
মূল বিষয়
প্রকৃতি, বৃক্ষ ও পশুপাখির সাথে মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন এবং সহমর্মিতা।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
কথক / লেখক (আহমদ ছফা): উপন্যাসের মূল চরিত্র, যিনি কংক্রিটের নগরে গাছপালা ও পাখিদের নিয়ে নিজস্ব নিসর্গ গড়ে তোলেন।
বৃক্ষ ও পুষ্পরাজি: ছাদবাগানের বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ, যা লেখকের নিঃসঙ্গতার সহচর ও কথোপকথনের পাত্র।
বিহঙ্গদল: লেখক দ্বারা আমন্ত্রিত ও আশ্রিত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, যারা লেখকের প্রতিদিনের আনন্দের উৎস।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





