
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
দ্বাদশ শতকের শেষভাগ। রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্ব তখন পড়তির দিকে। একদিকে বর্ণবাদী শাসন ও সামন্তদের অত্যাচার, অন্যদিকে তুর্কি আগ্রাসনের ভীতি—এমন চরম সন্ধিক্ষণে বাংলার সাধারণ মেহনতি মানুষের জীবন ও আত্মপরিচয়ের সন্ধানের কাহিনি 'প্রদোষে প্রাকৃতজন'...
বই সম্পর্কে
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও কালজয়ী ঐতিহাসিক উপন্যাস। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটিতে দ্বাদশ শতকের শেষ পর্বের বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেন রাজাদের শাসনাবসানের ঠিক পূর্বমুহূর্তে তুর্কি আক্রমণের আগমনী বার্তার প্রেক্ষাপটে পুরো আখ্যানটি রচিত হয়েছে।
উপন্যাসটির মূল শক্তি হলো এটি কোনো রাজা-বাদশাহ বা দরবারি ইতিহাস নয়, বরং ইতিহাসের অন্তরালে ঢাকা পড়ে থাকা প্রান্তিক ও নিম্নবর্ণের সাধারণ মানুষ—যাদের বলা হতো ‘প্রাকৃতজন’—তাদের শোষণ, দুঃখ-বেদনা, সংগ্রাম এবং বেঁচে থাকার আর্তি। সামন্ততান্ত্রিক শোষণ এবং ধর্মীয় জাতপাতের কঠোর বেড়াজালে নিষ্পেষিত মৃৎশিল্পী শ্যামাঙ্গ ও লীলাবতীর জীবনালেখ্যের মধ্য দিয়ে লেখক তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতাকে জীবন্ত করে তুলেছেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। ইতিহাসের চাকা যখন ঘোরে, তখন ক্ষমতার শীর্ষে থাকা রাজন্যবর্গের চেয়েও সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সমাজের অন্ত্যজ প্রাকৃতজন—এই সত্যটি লেখক অসামান্য দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
উপন্যাসের ভাষাভঙ্গি, প্রাচীন পরিবেশের নিখুঁত নির্মাণ এবং চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা পাঠককে সেই সুদূর অতীতের বাংলায় নিয়ে যায়। যারা ক্লাসিক সাহিত্য ও ইতিহাসভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।
মূল বিষয়
দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে সেন শাসনামলে তুর্কি আক্রমণের প্রাক্কালে বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ প্রাকৃতজনদের অস্তিত্ব রক্ষা ও সামাজিক সংঘাত।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
শ্যামাঙ্গ: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, তরুণ শিল্পী ও মৃৎশিল্পী যে সমাজের জাতপাত ও শোষণের শিকার।
লীলাবতী: উচ্চবর্ণের প্রতিপালিতা এক নারী, যার সঙ্গে শ্যামাঙ্গের আত্মিক ও প্রণয়মূলক টানাপোড়েন গড়ে ওঠে।
মায়াবতী: সাধারণ প্রাকৃত নারী, অন্ত্যজ সমাজের দুঃখ-কষ্টের প্রতীক।
বসুদেব: সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক সচেতন মানুষ।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





