
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
রাতের অন্ধকারে যারা অন্যের ঘরে সিঁধ কাটে, সমাজ তাদের চোর বলে দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু তাদের হৃদয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা রক্ত-মাংসের ভালোবাসা, ব্যথা আর অপমানের খবর কয়জন রাখে? 'সাহেব'-এর জীবনের আশ্চর্য অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় গল্প নিশিকুটুম্ব।
বই সম্পর্কে
কথাসাহিত্যিক মনোজ বসুর সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে সমাদৃত উপন্যাস 'নিশিকুটুম্ব'। সমাজের চোখে যারা দাগী চোর বা অপরাধী, তাদের পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে থাকা জটিল মনস্তত্ত্ব ও মানবিক অনুভূতিকে লেখক অনন্য সংবেদনশীলতায় উন্মোচন করেছেন। রাতের আঁধারে অতিথি হয়ে ঘরে ঢোকে বলেই চোরদের এককালে বলা হতো 'নিশিকুটুম্ব'।
উপন্যাসের মূল চরিত্র 'সাহেব' ছোটবেলা থেকেই প্রতিকূল পরিবেশের শিকার হয়ে চৌর্যবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। তবে পেশায় সিঁধেল চোর হলেও সাহেব মানুষ হিসেবে অত্যন্ত দয়ালু, সংবেদনশীল এবং পরোপকারী। রাতের অন্ধকারে চুরি করতে গিয়ে কিংবা দিনের আলোয় সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে সে নানা বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের বিচিত্র পেশা ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সাহেবের যোগাযোগ এবং তার জীবনের বাঁক বদল এই উপন্যাসের প্রাণ।
উপন্যাসটিতে তৎকালীন বঙ্গীয় সমাজব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, গ্রাম ও মফস্বলের সমাজজীবন, চোর ও পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নিম্নবর্গের মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত নিপুণ ভাষায় চিত্রিত হয়েছে। এটি কেবল একটি চরিত্রকেন্দ্রিক উপন্যাস নয়, বরং সামগ্রিক মানবচরিত্রের এক মহাভারত।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
'নিশিকুটুম্ব' বাংলা কথাসাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি। মনোজ বসু প্রচলিত সমাজের অপরাধীদের নিয়ে এমন এক কাব্যময় অথচ বাস্তবসম্মত উপন্যাস রচনা করেছেন যা পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোড়িত করে। ১৯৬৬ সালে এ উপন্যাসের জন্য লেখক ভারত সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান 'সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার' লাভ করেন।
উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর শক্তিশালী চরিত্রায়ণ এবং নিখুঁত আঞ্চলিক বর্ণনা। কেন্দ্রীয় চরিত্র সাহেবকে লেখক কোনো আদর্শবাদী সাধু বানাননি, বরং তার মানবিক দুর্বলতা, স্নেহ-প্রীতি ও অনুশোচনাকে জীবন্ত রূপ দিয়েছেন। কাহিনির গতি কোথাও মন্থর মনে হয় না, বরং চুরির রোমাঞ্চকর অভিযানের সাথে মানবিক নাটকের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে।
বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিক ধারার উপন্যাস যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য 'নিশিকুটুম্ব' পাঠ একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এটি মানুষকে কেবল অপরাধী হিসেবে না দেখে তার ভেতরের আত্মাকে ভালোবাসতে শেখায়।
মূল বিষয়
চৌর্যবৃত্তি পেশায় নিয়োজিত মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব, জীবন সংগ্রাম, সামাজিক অবক্ষয় এবং গভীর মানবিক মমত্ববোধ।
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
সাহেব: উপন্যাসের মূল চরিত্র; পরিস্থিতির শিকারে চোর হলেও অন্তরে এক অত্যন্ত স্নেহশীল ও উদার হৃদয় মানুষ।
কামাখ্যা: সাহেবের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং পরামর্শদাতা।
পটল: সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চুরির সহযোগী।
রাণী: সাহেবের জীবনের এক বিশেষ নারী চরিত্র, যার প্রতি তার গভীর আবেগ জড়িয়ে ছিল।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





