সকল বই (Library)
নাগিনী কন্যার কাহিনী - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

নাগিনী কন্যার কাহিনী - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

লেখক: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাউনলোড করুন
লেখকতারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীমিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
প্রকাশ সাল1952
পৃষ্ঠা210 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

মনসা পূজারী বিষহরী সম্প্রদায়ের লোকবিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের নিপুণ চিত্রায়ণ।
বিষকন্যাদের রহস্যময় জীবন এবং শৈশব থেকে বিষ প্রতিরোধক ক্ষমতার গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া।
সংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং মানবিক প্রেমের মাঝে চিরন্তন দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডি।
রাঢ় অঞ্চলের ব্রাত্য জনগোষ্ঠীর মনস্তত্ত্ব ও সমাজ বাস্তবতার অসাধারণ উপস্থাপন।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

সর্পদেবী বিষহরীর পূজারি সম্প্রদায়ের বিষকন্যাদের জীবন বড়ই অদ্ভুত ও রহস্যময়। শৈশব থেকেই বিষের সংস্পর্শে বড় হওয়া এই কন্যারা কি পারে সাধারণ মানবী হয়ে প্রেমে জড়াতে? সংস্কার আর ভালোবাসার দ্বন্দ্বে গড়ে ওঠা এক অমর আখ্যান।

বই সম্পর্কে

‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক অনন্য এবং কালজয়ী উপন্যাস। রাঢ় অঞ্চলের প্রান্তিক বেদে ও সর্পপূজারী সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, সংস্কার এবং তাদের বিচিত্র জীবনপ্রণালীকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের পটভূমি রচিত হয়েছে। বিষহরী দেবীর ভক্ত এই জনগোষ্ঠীর মাঝে গড়ে ওঠা বিষকন্যাদের মিথ ও বাস্তবের মিশেলকে লেখক অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কীভাবে সর্পদংশন থেকে বেঁচে ফেরা কন্যাদের বিষকন্যা হিসেবে গড়ে তোলা হয় এবং সমাজের চোখ থেকে আড়ালে রেখে এক অলৌকিক ও ভীতিকর সত্তায় পরিণত করা হয়। কিন্তু রক্ত-মাংসের মানুষের ভেতরে থাকা প্রেম, কামনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কোনো অন্ধ সংস্কারই পুরোপুরি চেপে রাখতে পারে না। পিংলার জীবনের টানাপোড়েন পুরো কাহিনীকে এক গভীর ট্র্যাজেডির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

বাংলা সাহিত্যের লোকায়ত জীবনের দলিল হিসেবে এই উপন্যাসটি এক অবিস্মরণীয় সংযোজন। আঞ্চলিক ভাষার মাধুর্য এবং আদিম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির চিত্রায়ণে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে তাঁর অনন্য সাহিত্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নাগিনী কন্যার কাহিনী’ বাংলা কথাসাহিত্যের এক পরম বিস্ময়। রাঢ় বাংলার ব্রাত্য ও প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে তারাশঙ্করের যে অবিসংবাদিত দখল রয়েছে, এই উপন্যাসে তা পূর্ণমাত্রায় প্রতিফলিত হয়েছে। কুসংস্কার, সর্পবিদ্যা এবং দেবী মনসার ভয়ের আড়ালে যে রক্তমাংসের মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব বাস করে, তা তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।

উপন্যাসের ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি পাঠককে নিয়ে যায় এক প্রাচীন, রহস্যঘেরা লোকায়ত জগতে। বিষকন্যাদের বিষক্রিয়া, ওঝা ও সাপুড়েদের আধ্যাত্মিক অহংকার এবং প্রেমের জন্য আত্মত্যাগের বিষয়টি পাঠককে স্তব্ধ করে দেয়। পিংলা চরিত্রের বেদনা এবং তার মানবিক আকুতি প্রতিটি পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করবে। যারা বাংলা ক্লাসিক সাহিত্যের রূপ ও গভীরতা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এই উপন্যাসটি পড়া আবশ্যক।

মূল বিষয়

বেদে ও বিষহরী সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, বিষকন্যার জীবন, আদিম প্রবৃত্তি ও ট্র্যাজিক প্রেম

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

পিংলা: উপন্যাসের মূল চরিত্র, বিষহরী সম্প্রদায়ের বিষকন্যা যে নিয়তির নিষ্ঠুর খেলার শিকার।

শিবরাম: তান্ত্রিক ও সর্পবিদ্যায় পারদর্শী চরিত্র, যার সাথে মূল কাহিনীর সংঘাত জড়িয়ে।

মহিমা: উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র যার প্রেম ও ত্যাগ উপন্যাসের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে