
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
সপ্তদশ শতকে বাংলায় পর্তুগিজ জলদস্যু ও দাস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং মুঘল ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর দলিল রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি 'ময়ূখ' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে।
বই সম্পর্কে
বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক উপন্যাস 'ময়ূখ'। উপন্যাসটি সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় পর্তুগিজ বা ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের অত্যাচারের পটভূমিতে রচিত। সম্রাট শাহজাহানের আমলে বাংলার সুবাদার কাসিম খান কীভাবে হুগলি থেকে অত্যাচারী পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন, তা নিপুণভাবে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উপন্যাসের মূল চরিত্র ময়ূখ—একজন দুঃসাহসী ও আদর্শবান যুবক, যে তৎকালীন জলদস্যুতার শিকার নিরপরাধ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইতিহাসের প্রামাণ্য তথ্যের সাথে কল্পনার চমৎকার সংমিশ্রণে লেখক তখনকার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক বাস্তবতাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির উত্থানের পূর্ববর্তী সময়ের অস্থিরতা উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
'ময়ূখ' কেবল একটি গতানুগতিক উপন্যাস নয়, বরং এটি নিখুঁত ঐতিহাসিক গবেষণার সাহিত্যিক প্রকাশ। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক হওয়ায় তাঁর বর্ণনায় ইতিহাসের গভীরতা এবং সত্যতা প্রবলভাবে অনুভূত হয়। জলদস্যুদের নৃশংসতা, যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তেজনা এবং সাধারণ মানুষের তৎকালীন দুরবস্থা বর্ণনায় লেখকের মুন্সিয়ানা প্রশংসনীয়।
চরিত্র নির্মাণে লেখক বাস্তববাদিতার পরিচয় দিয়েছেন। ভাষা কিছুটা গুরুগম্ভীর ও সাধু রীতির হলেও তা কাহিনীর ঐতিহাসিক আবহকে বহুলাংশে সমৃদ্ধ করে তোলে। বিশেষ করে হুগলি দুর্গ অবরোধের রোমাঞ্চকর বিবরণ পাঠককে শেষ পর্যন্ত আকৃষ্ট করে রাখে। যারা বাংলা ঐতিহাসিক সাহিত্যের প্রকৃত স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য 'ময়ূখ' একটি অবশ্যপাঠ্য ক্লাসিক গ্রন্থ।
মূল বিষয়
সপ্তদশ শতকের বাংলায় পর্তুগিজ জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য এবং মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও ঐতিহাসিক সংঘাত
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
ময়ূখ: উপন্যাসের মূল চরিত্র, বীর যুবক যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়
কাসিম খান: মুঘল সুবাদার, যিনি পর্তুগিজদের দমনে অভিযান পরিচালনা করেন
ম্যানুয়েল: পর্তুগিজ প্রতিনিধি ও সামরিক ব্যক্তিত্ব
কমলা: উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র, যার ভাগ্য এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে যায়
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





