সকল বই (Library)
মা - আনিসুল হক (Maa by Anisul Hoque) – আনিসুল হক বইয়ের প্রচ্ছদ

মা - আনিসুল হক (Maa by Anisul Hoque)

লেখক: আনিসুল হক

ডাউনলোড করুন
লেখকআনিসুল হক
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীসময় প্রকাশন
প্রকাশ সাল2003
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদের সত্য জীবনভিত্তিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
এক ধনীর দুলালী মায়ের আত্মমর্যাদাবোধ এবং একাকী সন্তানকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রাম।
১৯৭১ সালের ক্র্যাক প্লাটুনের দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন।
বন্দিশালায় নির্যাতনের মুখে আজাদের অটল দেশপ্রেম ও মায়ের একনিষ্ঠ আত্মত্যাগ।
যুদ্ধের পর নিখোঁজ ছেলের আশায় দীর্ঘ ১৪ বছর মেঝেতে শুয়ে এবং একবেলা খেয়ে মায়ের বেঁচে থাকা।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

মা আনিসুল হক রচিত একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন বাস্তবভিত্তিক উপন্যাস, যা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদ ও তাঁর মায়ের অমর ত্যাগের কাহিনী তুলে ধরে।

বই সম্পর্কে

‘মা’ প্রখ্যাত সাহিত্যিক আনিসুল হক রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। বইটির মূল উপজীব্য ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এক দুঃসাহসী গেরিলা যোদ্ধা মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ এবং তাঁর গর্বিত জননী সাফিয়া বেগমের জীবনের করুণ ও সত্য ঘটনা। বিত্তবান পিতার অহংকার ও অসততার সঙ্গে আপস না করে আজাদের মা আত্মসম্মান নিয়ে পুত্রকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি আজাদকে গড়ে তুলেছিলেন এক নির্ভীক, স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে।

উপন্যাসটিতে তৎকালীন উত্তাল ঢাকা, ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা অপারেশন, ধরা পড়ার পর পাক হানাদার বাহিনীর নারকীয় নির্যাতন এবং বন্দিশালায় আজাদের সাথে তাঁর মায়ের শেষ সাক্ষাতের দৃশ্যগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও মর্মস্পর্শী ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। বন্দিশালায় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের মধ্যেও মা তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, 'বাবা, শক্ত হয়ে থেকো। কোনো কিছুতেই যেন কারো নাম না বলো।' পুত্রের ওপর নির্যাতনের কথা ভেবে মা নিজেই সারা জীবন বিছানা ত্যাগ করে মাটিতে শুয়ে এবং একবেলা সামান্য চালের ভাত খেয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

বাঙালি জাতির রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং মাতৃত্বের চরম আত্মত্যাগের অনন্য দলিল এই উপন্যাসটি। আনিসুল হকের ঝরঝরে লেখনী এবং ইতিহাস ও আবেগের সুনিপুণ সংমিশ্রণ বইটিকে প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

আনিসুল হকের ‘মা’ কোনো সাধারণ উপন্যাস নয়, এটি একটি জীবন্ত ইতিহাস যা পড়তে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করা প্রায় অসম্ভব। লেখক অত্যন্ত চমৎকার শৈলীতে সত্য ঘটনাকে উপন্যাসের ফ্রেমে সাজিয়েছেন। সাফিয়া বেগমের ব্যক্তিত্ব ও সংকল্প প্রতিটি নারীর জন্য অনুকরণীয় এবং আজাদের মতো বীর সন্তান দেশের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার পেছনের মূল শক্তি।

উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল অথচ গভীর আবেগময়। বিশেষ করে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আজাদের মায়ের সাথে ছেলের শেষ দেখা হওয়ার অধ্যায়টি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য হিসেবে পরিগণিত। লেখকের তথ্য সংগ্রহের গভীরতা এবং প্রতিটি চরিত্রের প্রতি দায়িত্বশীল উপস্থাপন বইটির গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত যেকোনো বইয়ের তালিকায় ‘মা’ শীর্ষে থাকার দাবিদার। প্রতিটি প্রজন্মের বাঙালির এই বইটি পড়া উচিত নিজেদের শিকড়, স্বাধীন দেশের আত্মত্যাগ এবং মাতৃস্নেহের মাহাত্ম্য গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য।

মূল বিষয়

মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম এবং শহীদ আজাদ ও তাঁর মায়ের অপরিসীম আত্মত্যাগ

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ: বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্র্যাক প্লাটুনের দুঃসাহসী গেরিলা যিনি দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেন।

মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগম: আজাদের গর্ভধারিণী মা, যিনি আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন এবং পুত্রের আদর্শের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

ইউনুস চৌধুরী: আজাদের বিত্তশালী পিতা, যিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সাফিয়া বেগম আত্মসম্মান নিয়ে পুত্রসহ তাঁর গৃহ ত্যাগ করেন।

জুয়েল, রুমি, বাদি, বকর: আজাদের সহযোদ্ধা ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যগণ, যাঁরা ঢাকার গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে