সকল বই (Library)
খোয়াবনামা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বইয়ের প্রচ্ছদ

খোয়াবনামা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

লেখক: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

ডাউনলোড করুন
লেখকআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীমাওলা ব্রাদার্স
প্রকাশ সাল1996
পৃষ্ঠা260 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

বগুড়া ও চলনবিল অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক ও জেলে সম্প্রদায়ের পটভূমিতে রচিত এক কালজয়ী মহাকাব্যিক উপন্যাস।
৪৭-এর দেশভাগ ও পাকিস্তান আন্দোলনের আড়ালে কৃষক সমাজের বঞ্চনা ও তেভাগা আন্দোলনের বাস্তব রূপায়ণ।
বাঙালির লোকবিশ্বাস, মিথ, স্বপ্ন (খোয়াব) ও রাজনৈতিক বাস্তবতার অপূর্ব সংমিশ্রণ।
মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ও আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

কাৎলাহার বিলের পানির ওপর ভাসে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা স্বপ্ন, বঞ্চনা আর মিথের কুয়াশা। তমিজের বাপ সেই কুয়াশায় খোঁজে তার পূর্বপুরুষের স্মৃতি, আর তমিজ খোঁজে তার নিজের জমিন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' কেবল একটি উপন্যাস নয়, বাঙালির অস্তিত্ব ও ইতিহাসের এক মহা-আখ্যান।

বই সম্পর্কে

‘খোয়াবনামা’ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কথাসাহিত্যের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী উপন্যাস। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এই উপন্যাসে উত্তরবঙ্গের কাৎলাহার বিলের পটভূমিতে গ্রামীণ জনপদের মানুষগুলোর জীবনাচরণ, লোকবিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ের পটভূমিতে মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়েও সাধারণ কৃষকের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং অধিকার আদায়ের 'তেভাগা আন্দোলন' এখানে প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান দিক হলো মিথ ও জাদুবাস্তবতার নিপুণ ব্যবহার। চেরাগ আলী ফকিরের পয়ার, মুনশি বৈঠকের গান এবং তমিজের বাপের রাতের পর রাত গাছে ওঠার খোয়াব—এসবের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক মানুষের গভীর মনস্তত্ত্ব ও ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক উচ্চাশার আড়ালে সাধারণ মানুষের জমির অধিকার কীভাবে হারিয়ে যায়, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিত্রিত হয়েছে এই রচনায়।

আঞ্চলিক ভাষা, সংলাপে নিখুঁত বাস্তবতা এবং মহাকাব্যিক ব্যাপ্তির কারণে ‘খোয়াবনামা’ বিশ্বমানের উপন্যাসের মর্যাদা পেয়েছে। পাঠককে এটি ইতিহাসের এমন এক স্তরে নিয়ে যায়, যেখানে স্বপ্ন ও বাস্তবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' পাঠ করা এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। লেখক অত্যন্ত দক্ষভাবে সাধারণ মানুষের লোকজ সংস্কার, স্বপ্ন এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। উপন্যাসটির ভাষা ও চরিত্র নির্মাণ এত জীবন্ত যে কাৎলাহার বিলের ভেজা মাটি, কাদাজল এবং মেহনতি মানুষের ঘামের গন্ধ প্রতিটি পাতায় স্পষ্ট অনুভব করা যায়।

বাংলা সাহিত্যে দেশভাগ নিয়ে বহু লেখা হলেও খোয়াবনামার মতো মাটি ও মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশভাগকে দেখার প্রয়াস বিরল। শরাফত মণ্ডলের মতো সুবিধাবাদী চরিত্র যেমন বাস্তব, তেমনি তমিজের সংগ্রামের রূপান্তর পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটে। যারা গভীর জীবনঘনিষ্ঠ ও বিশ্বমানের সাহিত্য খুঁজছেন, তাদের জন্য 'খোয়াবনামা' একটি অবশ্য পাঠ্য মাস্টারপিস।

মূল বিষয়

১৯৪৭ সালের দেশভাগ, তেভাগা আন্দোলন, প্রান্তিক মানুষের স্বপ্ন ও জাদুবাস্তবতা

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

তমিজের বাপ: কাৎলাহার বিলের মাঝি ও মিথনির্ভর চরিত্র, যে রাতে পাকুড় গাছে মুনশি সাহেবের আবির্ভাবের স্বপ্ন দেখে।

তমিজ: তমিজের বাপের ছেলে, যে গ্রামীণ দারিদ্র্যের শিকার হয়ে ধীরে ধীরে তেভাগা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়।

চেরাগ আলী ফকির: খোয়াব ব্যাখ্যাকারী ও পয়ারের রচয়িতা, যার লেখা খোয়াবনামা মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেয়।

শরাফত মণ্ডল: গ্রামের ক্ষমতাবান ও সুবিধাবাদী জোতদার, যে মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে জমি দখল করে।

কুলসুম: চেরাগ আলী ফকিরের মেয়ে এবং তমিজের বাপের পরবর্তী স্ত্রী।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে