
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
'কাহাকে?' স্বর্ণকুমারী দেবীর একটি অনন্য মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যেখানে তিনি প্রথাগত প্রেমের গল্প পেরিয়ে মানবমনের জটিল অনুভূতি এবং আত্মদ্বন্দ্বকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
বই সম্পর্কে
১৮৯৮ সালে প্রকাশিত 'কাহাকে?' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। ঠাকুর পরিবারের অন্যতম অগ্রগণ্য সাহিত্যিক ও সম্পাদিকা স্বর্ণকুমারী দেবী এই উপন্যাসে নারী মনের এক জটিল অথচ চিরন্তন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন—হৃদয়ের প্রকৃত ভালোবাসা আসলে কার প্রাপ্য? নায়িকা মনোরমার আত্মজৈবনিক ভঙ্গিতে লেখা এই আখ্যানে প্রেম, অনুশোচনা, আত্মমর্যাদা এবং দ্বিধার টানাপোড়েন অত্যন্ত জীবন্তভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তৎকালীন উনিশ শতকের শেষভাগে নারী স্বাধীনতার উন্মেষ এবং ব্রাহ্ম সমাজের পরিশীলিত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের প্রভাব উপন্যাসটির পাতায় পাতায় লক্ষণীয়। গতানুগতিক মেলোড্রামার বদলে চরিত্রগুলোর মনোজগতের দ্বন্দ্বে আলোকপাত করে স্বর্ণকুমারী দেবী তৎকালীন বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছিলেন। ক্লাসিক বাংলা সাহিত্যের অনুরাগীদের জন্য উপন্যাসটি এক অপরিহার্য সংযোজন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
স্বর্ণকুমারী দেবীর 'কাহাকে?' উপন্যাসটি তৎকালীন সময়ের তুলনায় অত্যন্ত প্রগতিশীল ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতাসম্পন্ন। সাধারণত উনিশ শতকের উপন্যাসে নারীর যে চিত্রায়িত রূপ দেখা যেত, তার বিপরীতে এখানে নায়িকা মনোরমা নিজেই তার অনুভূতি, ভালোলাগা ও বিভ্রান্তিকে বিশ্লেষণ করছে। উপন্যাসের ভাষা মার্জিত, ঝরঝরে এবং গভীর জীবনবোধে ঋদ্ধ।
প্রেমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং মনের গহীনে নিজের প্রকৃত অনুভূতি চেনার যে প্রচেষ্টা লেখিকা চিত্রিত করেছেন, তা যেকোনো সময়ের পাঠকের মনেই নাড়া দেবে। বাংলা রোমান্টিক ও মনস্তাত্ত্বিক সাহিত্যের আদি পর্বের রূপ বুঝতে হলে এই বইটি প্রতিটি সাহিত্যপ্রেমীর পড়া উচিত।
মূল বিষয়
নারী হৃদয়ের আত্মানুসন্ধান, দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং রোমান্টিক প্রেমের মনস্তাত্ত্বিক রূপায়ণ
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
মনোরমা: উপন্যাসের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র; নিজের প্রণয় ও আবেগের দ্বন্দ্ব নিয়ে চিন্তিত এক সংবেদনশীল তরুণী।
অনাদীশ: উদার ও ব্যক্তিত্ববান যুবক, যার প্রতি মনোরমার হৃদয়ে অনুরাগ ও দোলাচল তৈরি হয়।
সুকুমার: মনোরমার শৈশব-কৈশোরের পরিচিত সুহৃদ, সম্পর্কের দোলাচলে অন্যতম অনুঘটক।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





