
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
"ঝিলের ধারে বাড়ি" শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের "অদ্ভুতুড়ে" সিরিজের ১১তম রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস। সুন্দরবনের কাছের গ্রাম কেটেরহাটে সদাশিববাবুর পুরনো বাড়ির পাশের ঝিল ঘিরে এক রহস্যময় কাহিনি। বিজ্ঞানীরা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর অদ্ভুত ঘটনা ঘটলে সদাশিববাবু পরিবারকে নিয়ে অভিযানে নামেন।
বই সম্পর্কে
"ঝিলের ধারে বাড়ি" শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের "অদ্ভুতুড়ে" সিরিজের ১১তম বই, যা ১৯৮৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। গল্পটি সুন্দরবনের পাশের ছোট্ট গ্রাম কেটেরহাটে অবস্থিত। এখানে প্রধান চরিত্র সদাশিববাবু তার পুরনো বাড়িতে একা বসবাস করেন। বাড়ির পাশের বড় ঝিলকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য ও কিংবদন্তি। একসময় দুর্দান্ত স্পোর্টসম্যান ও শিকারী সদাশিববাবু বর্তমানে তার পুরনো বাড়িতে একা থাকেন। তার ছেলে ও নাতি-নাতনিরা কলকাতায় থাকলেও প্রতি সপ্তাহে শনি-রবিবারে তার সাথে সময় কাটাতে আসে। এক শীতের সকালে তিনজন যুবক নিজেদের বিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে গবেষণার জন্য ওই পুরনো বাড়িটি ভাড়া নিতে চায়। সদাশিববাবু প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত হলেও পরে রাজি হন, তবে তাদের চলে যাওয়ার পর তার মনে সন্দেহ জাগে। বিজ্ঞানীদের আগমনের পর থেকে গ্রামে ও ঝিলের ধারে অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। সদাশিববাবু ও তার পরিবার এই ঘটনার সমাধানে উদ্যোগী হন এবং এক রোমাঞ্চকর অভিযানে নামেন।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
"ঝিলের ধারে বাড়ি" একটি চিত্তাকর্ষক কিশোর উপন্যাস, যা রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ। লেখক দক্ষভাবে রহস্যময় ঘটনা ও অ্যাডভেঞ্চারকে মিশিয়ে একটি আকর্ষণীয় কাহিনি উপস্থাপন করেছেন। এর ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল, যা কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য উপভোগ্য। সদাশিববাবু ও অন্যান্য চরিত্রের চিত্রায়ন জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত। গল্পে পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধের সুন্দর উপস্থাপন রয়েছে। গল্পের টানটান উত্তেজনা, চরিত্রগুলোর মজার বর্ণনা এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশের চিত্রায়ন বইটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। তবে, গল্পের কিছু অংশে গতি ধীর এবং কিছু রহস্য পূর্বানুমানযোগ্য হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, লেখকের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি প্রশংসনীয়। যারা কিশোর সাহিত্য ও রহস্যময় কাহিনি পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।
মূল বিষয়
কিশোর সাহিত্য, রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার, পারিবারিক মূল্যবোধ
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





