সকল বই (Library)
ডেভিড কপারফিল্ড - চার্লস ডিকেন্স (বাংলা অনুবাদ) – চার্লস ডিকেন্স বইয়ের প্রচ্ছদ

ডেভিড কপারফিল্ড - চার্লস ডিকেন্স (বাংলা অনুবাদ)

লেখক: চার্লস ডিকেন্স

ডাউনলোড করুন
লেখকচার্লস ডিকেন্স
ক্যাটাগরিঅনুবাদ
প্রকাশনীসেবা প্রকাশনী / বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
প্রকাশ সাল2018
পৃষ্ঠা340 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

ভিক্টোরিয়ান যুগের প্রেক্ষাপটে রচিত চার্লস ডিকেন্সের অন্যতম সেরা আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
এক অনাথ বালকের দুর্বিষহ শৈশব থেকে শুরু করে পরিণত মানুষ ও সফল লেখক হিসেবে গড়ে ওঠার পথপরিক্রমা।
মানুষের লোভ, চক্রান্ত, কপটতা এবং একই সাথে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিক সহমর্মিতার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
মিকবার, ইউরাইয়া হিপ ও বেটসি ট্রটউডের মতো অবিস্মরণীয় চরিত্রের অপূর্ব সন্নিবেশ।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

ডেভিড কপারফিল্ড চার্লস ডিকেন্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কালজয়ী সৃষ্টিগুলোর অন্যতম। কঠোর বাস্তবতা, নিষ্ঠুরতা ও দারিদ্র্যের মাঝেও কীভাবে এক বালক আশা আর ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকে এবং জীবনে নিজের পরিচয় তৈরি করে, তারই এক অপরূপ দলিল এই বই।

বই সম্পর্কে

ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের অবিসংবাদিত সম্রাট চার্লস ডিকেন্সের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ডেভিড কপারফিল্ড’। উপন্যাসটি মূলত লেখকের নিজস্ব জীবনের বহু বাস্তব অভিজ্ঞতার আদলে রচিত, যা একে করে তুলেছে অত্যন্ত জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী। গল্পটি শুরু হয় ডেভিডের জন্মের ঠিক আগ মুহূর্তে এবং পরবর্তীতে তার শৈশবের অবহেলা, বোর্ডিং স্কুলের নির্মম শাসন, কারখানার চরম শ্রমসাধ্য বাস্তবতা ও ভাগ্য পরিবর্তনের অবিরাম লড়াইকে নিখুঁতভাবে চিত্রিত করে।

উপন্যাসে ডিকেন্স কেবল একটি চরিত্রের জীবনকাহিনি তুলে ধরেননি, বরং সমকালীন ব্রিটিশ সমাজের বৈষম্য, শ্রেণিভেদ, অনাথ ও দরিদ্র শিশুদের ওপর চালানো শোষণকে তীব্র ব্যঙ্গ ও বাস্তবতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিকূলতার সাগরে ভাসমান ডেভিডের জীবনে বহু বিচিত্র মানুষের আগমন ঘটে—কেউ তাকে ঠকায়, কেউ অবজ্ঞা করে, আবার কেউবা নিঃস্বার্থ স্নেহের হাত বাড়িয়ে দেয়।

বাংলা অনুবাদে বইটির ভাষা প্রাঞ্জল ও গতিশীল রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো বাংলাভাষী পাঠক মূল ইংরেজি ক্ল্যাসিকের স্বাদ সহজেই আস্বাদন করতে পারেন। সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের জন্য এটি একটি অবশ্য পাঠ্য চিরকালীন আখ্যান।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

‘ডেভিড কপারফিল্ড’ এমন একটি ধ্রুপদী উপন্যাস যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাঠকের হৃদয়ে আলোড়ন তুলে আসছে। বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা। ডিকেন্স চরিত্র সৃষ্টিতে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে পাঠের সময় মনে হয় যেন প্রতিটি চরিত্র আমাদের আশেপাশেই বিচরণ করছে। একদিকে মিকবারের আশাবাদ পাঠককে হাসায়, অন্যদিকে মার্ডস্টোনের নিষ্ঠুরতা চোখ ভিজিয়ে দেয়।

উপন্যাসের গতি কোথাও স্থবির মনে হয় না। ডেভিডের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা তাকে এক স্তর থেকে আরেক স্তরে পরিণত করে তোলে। এটি শুধুই একটি শোকগাথা নয়, বরং চরম অন্ধকারের ভেতর থেকেও নিজের অস্তিত্ব ও সম্মান ছিনিয়ে আনার এক তীব্র আশাবাদী আখ্যান। বিশেষ করে ডেভিডের আত্মমর্যাদাবোধ ও ঘুরে দাঁড়ানোর স্পৃহা যেকোনো বয়সী পাঠককে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

বাংলা অনুবাদটি সাবলীল ও পরিপাটি হওয়ায় দীর্ঘ উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে কোনো একঘেয়েমি তৈরি হয় না। ধ্রুপদী সাহিত্যের রূপ-রস অক্ষুণ্ণ রেখে অনুবাদক চমৎকারভাবে মূল আবহটিকে রক্ষা করেছেন। যারা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য রত্নগুলোকে বাংলায় অনুভব করতে ভালোবাসেন, তাদের বুকশেলফে বইটি একটি অনবদ্য সংযোজন।

মূল বিষয়

জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, আত্মউন্নয়ন, মানবিকতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

ডেভিড কপারফিল্ড: উপন্যাসের মূল চরিত্র ও বর্ণনাকারী; যার শৈশব সংগ্রাম এবং আত্মবিকাশকে কেন্দ্র করে গল্পটি এগিয়েছে।

ক্লারা পেগোটি: ডেভিডের বিশ্বস্ত, মমতাময়ী সেবিকা এবং শৈশবের পরম আশ্রয়।

এডওয়ার্ড মার্ডস্টোন: ডেভিডের নিষ্ঠুর ও নির্দয় সৎপিতা, যে তার জীবন বিষাদময় করে তোলে।

বেটসি ট্রটউড: ডেভিডের দৃঢ়চেতা ও স্নেহময়ী ফুফু, যিনি বিপদের সময় তাকে আশ্রয় ও স্নেহে বড় করেন।

উইলকিন্স মিকবার: চিরন্তন আশাবাদী অথচ সর্বদাই ঋণগ্রস্ত এক মজাদার ও সহমর্মী চরিত্র।

ইউরাইয়া হিপ: চক্রান্তকারী, ভণ্ড ও কুটিল প্রকৃতির খলনায়ক।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে