সকল বই (Library)
বিষাদ-সিন্ধু - মীর মোশাররফ হোসেন – মীর মশাররফ হোসেন বইয়ের প্রচ্ছদ

বিষাদ-সিন্ধু - মীর মোশাররফ হোসেন

লেখক: মীর মশাররফ হোসেন

ডাউনলোড করুন
লেখকমীর মশাররফ হোসেন
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীঐতিহ্য
প্রকাশ সাল1885
পৃষ্ঠা450 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মোশাররফ হোসেনের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
উপন্যাসটি মূলত তিনটি প্রধান পর্বে বিভক্ত: মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব এবং এজিদ-বধ পর্ব।
হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর অনুসারীদের কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণের হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি।
ইতিহাসের পাশাপাশি লেখকের নিজস্ব কল্পনা ও আবেগের মেলবন্ধনে সৃষ্ট এক অনুপম গদ্যশৈলী।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

কারবালার নির্মম বিয়োগান্তক ইতিহাসকে কেন্দ্র করে উনিশ শতকে রচিত 'বিষাদ-সিন্ধু' বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য মাইলফলক। শোক ও মানবিক বেদনার গভীর অনুভূতি নিয়ে লেখা এক অমর আখ্যান।

বই সম্পর্কে

‘বিষাদ-সিন্ধু’ বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধ্রুপদী সৃষ্টি। মীর মোশাররফ হোসেন কারবালার ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে উপজীব্য করে এই মহাকাব্যিক উপন্যাস রচনা করেন। ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে তিন পর্বে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের এক অভাবনীয় সম্পদ। উপন্যাসটি নিছক ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক বিবরণ নয়, বরং এটি মানবীয় আবেগ, ক্ষমতা লিপ্সা, প্রেম, ঈর্ষা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য আখ্যান।

গ্রন্থটি প্রধানত তিনটি পর্বে বিভক্ত—মহরম পর্ব, উদ্ধার পর্ব এবং এজিদ-বধ পর্ব। লেখক এতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে হযরত ইমাম হোসেনের আত্মদান এবং ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ এজিদের পতনকে নাট্যরূপ দিয়েছেন। যদিও ঐতিহাসিক তথ্যের চেয়ে লেখকের কাল্পনিক নাট্যরস ও রোমান্টিক আবহ এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, তবুও এর ভাষার গাঢ়তা এবং শোকাবহ রস পাঠককে গভীরভাবে মোহিত করে।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

মীর মোশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উনিশ শতকের বাংলা গদ্যরীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তৎসম শব্দবহুল সাধু ভাষার চমৎকার প্রয়োগ এবং আবেগময় বর্ণনা উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় শোক ও কারুণ্যের আবহ তৈরি করে। লেখকের চরিত্রায়ন এবং বর্ণনামূলক ভাষা এতটাই তীব্র যে কারবালার তপ্ত মরুভূমির তৃষ্ণা ও নিষ্ঠুরতা পাঠকের চোখের সামনে বাস্তব হয়ে ওঠে।

যদিও অনেক ঐতিহাসিক ও সমালোচক বইটিকে পুরোপুরি নিখুঁত ইতিহাস বলে গণ্য করেন না, বরং এটিকে একটি ইতিহাস-আশ্রিত ট্র্যাজিক উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করেন। সাহিত্যিক উৎকর্ষতা, শোকগাথা এবং বাংলা উপন্যাসের ক্রমবিকাশের ইতিহাসে বিষাদ-সিন্ধুর স্থান চিরস্থায়ী। বাংলা সাহিত্যের যেকোনো অনুরাগীর জন্য বইটি পাঠ করা একটি অবশ্যম্ভাবী অভিজ্ঞতা।

মূল বিষয়

কারবালার মর্মস্পর্শী ঐতিহাসিক ঘটনা ও এজিদ-হোসেন বিরোধের মহাকাব্যিক সাহিত্য রূপ

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

ইমাম হোসেন (রা.): মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র এবং কারবালার যুদ্ধের প্রধান আত্মোৎসর্গকারী চরিত্র।

ইমাম হাসান (রা.): ইমাম হোসেনের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, যাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়।

এজিদ: দামেস্কের উমাইয়া শাসক ও কাহিনীর প্রধান বিরোধী খলনায়ক চরিত্র।

সীমার: এজিদের নিষ্ঠুর অনুচর এবং ইমাম হোসেনের হত্যাকারী।

জয়নাব: আব্দুল জব্বারের রূপসী পত্নী, যার প্রতি এজিদের অন্ধ মোহ সংঘাতকে ত্বরান্বিত করে।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে