
বইয়ের মূল বিষয়বস্তু
সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ
যুদ্ধ, রক্তপাত, হিরোশিমার পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ আর ভিয়েতনামের অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত মানবতার একটিই কাতর জিজ্ঞাসা—এই অন্যায় আর কতদিন চলবে?
বই সম্পর্কে
'আর কতদিন' প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের এক কালজয়ী ও আন্তর্জাতিকতাবাদী উপন্যাস। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের গল্প নয়, বরং বিশ্বের বুকে ঘটে যাওয়া সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, বর্ণবাদ, যুদ্ধ ও পারমাণবিক ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে এক তীব্র মানবিক প্রতিবাদ। হিরোশিমা-নাগাসাকির পারমাণবিক ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে ভিয়েতনামের যুদ্ধ এবং বর্ণবাদের নির্মম শিকার মানুষের যন্ত্রণাকে লেখক এক সুতোয় গেঁথেছেন এই উপন্যাসে।
উপন্যাসটিতে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্ষমতালিপ্সু শক্তির আগ্রাসনে পিষ্ট নিরীহ মানুষের জীবনকে প্রতীকী কিন্তু তীক্ষ্ণ ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের গভীর অন্তর্দৃষ্টি মানবজাতির অবক্ষয়কে উন্মোচিত করে প্রতিটি সচেতন পাঠকের হৃদয়ে এক বিবেকতাড়িত প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—মানুষের ওপর মানুষের এই অমানবিক অত্যাচার, শোষণ ও রক্তপাত আর কতদিন স্থায়ী হবে?
অনুপম প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত এই ধ্রুপদী উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনার এক অনন্য স্মারক। ইতিহাস, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রচিত এই নাতিদীর্ঘ উপন্যাসটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী।
রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া
জহির রায়হানের 'আর কতদিন' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও ব্যতিক্রমী যুদ্ধবিরোধী সৃষ্টি। লেখক সাধারণত গ্রামীণ জীবন ও মধ্যবিত্ত সমাজের মনস্তত্ত্ব নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু এই উপন্যাসে তাঁর চিন্তার পরিধি বৈশ্বিক রূপ ধারণ করেছে। দেশকাল ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে তিনি বিশ্বমানবতার যন্ত্রণাকে নিজের বুকে ধারণ করেছেন, যা তৎকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল ছিল।
উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত কাব্যময়, প্রতীকী এবং আবেগময়। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগিয়ে তোলে। লেখকের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্তর্জাতিকতাবোধ বইটি পাঠ করার সময় পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরোধী সাহিত্যের গভীরতা উপলব্ধি করতে চান, তাদের জন্য এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য। এটি কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং মানুষের মুক্তি ও শান্তির চিরন্তন ইশতেহার।
মূল বিষয়
যুদ্ধবিরোধী মানবিক চেতনা, সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের মুক্তি সংগ্রাম
চরিত্র / আলোচিত বিষয়
বর্ণনাকারী: যুদ্ধের নির্মমতা ও শোষণের বিরুদ্ধে জাগ্রত বিশ্ববিবেক ও সংবেদনশীল পর্যবেক্ষক।
নিপীড়িত মানবজাতি: ভিয়েতনাম, আফ্রিকা ও এশিয়ার যুদ্ধ ও বৈষম্যের শিকার প্রতীকী সাধারণ মানুষ।
বই পড়লে কী পাবেন?
- মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
- বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
- চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
- সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
- অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে





