সকল বই (Library)
আমি মৃণালিনী নই - হরিশংকর জলদাসহরিশংকর জলদাস

আমি মৃণালিনী নই - হরিশংকর জলদাস

লেখক: হরিশংকর জলদাস

ডাউনলোড করুন
লেখকহরিশংকর জলদাস
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীঅন্যপ্রকাশ
প্রকাশ সাল2018
পৃষ্ঠা160 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে মৃণালিনী দেবীর নীরব অবহেলা ও বিষাদের চিত্রায়ন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাকায় ছায়ার পাশে একজন সাধারণ নারীর স্ত্রী ও মাতা হিসেবে আত্মবলিদান।
ভবেন্দু আর ভবতারিণী থেকে 'মৃণালিনী' হয়ে ওঠার মর্মান্তিক রূপান্তর ও মানসিক টানাপোড়েন।
ইতিহাস ও কথাসাহিত্যের নিপুণ সংমিশ্রণে এক অবহেলিত ঐতিহাসিক চরিত্রের পুনর্ব্যাখ্যা।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

'আমি মৃণালিনী নই' উপন্যাসে হরিশংকর জলদাস বিশ্বকবির আলোয় ঢাকা পড়ে থাকা ভবতারিণী ওরফে মৃণালিনী দেবীর হৃদয়বিদারক জীবনগাথা অসাধারণ মমতায় চিত্রিত করেছেন।

বই সম্পর্কে

হরিশংকর জলদাসের 'আমি মৃণালিনী নই' একটি অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিপুল সৃষ্টি ও খ্যাতির আলোয় তাঁর পত্নী মৃণালিনী দেবী চিরকালই ইতিহাসের পাতায় প্রায় উপেক্ষিত ও আড়ালে থেকে গেছেন। এ উপন্যাসে লেখক অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে প্রবেশ করেছেন এবং মৃণালিনী দেবীর না-বলা কথাগুলোকে শব্দে রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটিতে দেখা যায় কীভাবে পল্লীগ্রামের বালিকা ভবতারিণী জোড়াসাঁকোর অভিজাত সংস্কৃতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো বিরাট ব্যক্তিত্বের পাশে নিজের স্বপ্ন, অনুভূতি ও আত্মপরিচয় বিসর্জন দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন কেবলই এক নীরব সেবাদাসী ও আশ্রিতা। কিন্তু এই ত্যাগ ও দুঃখের মাঝেও তাঁর অন্তরে ছিল স্বকীয় সত্তার তীব্র জিজ্ঞাসা—যা লেখক নিখুঁত লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

হরিশংকর জলদাস বাংলা কথাসাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের জীবন আঁকতে সিদ্ধহস্ত। তবে 'আমি মৃণালিনী নই' উপন্যাসে তিনি প্রান্তিকতাকে আবিষ্কার করেছেন সমাজের উচ্চস্তরের এক নারীর অন্তঃপুরে। উপন্যাসের ভাষা অত্যন্ত কাব্যিক, আবেগঘন এবং সাবলীল। মৃণালিনী দেবীর নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও দূরত্বের জটিল সম্পর্ককে লেখক গভীর সহানুভূতির সাথে উপস্থাপন করেছেন।

ইতিহাসের উপাদানকে উপন্যাসের ফর্মে বেঁধে লেখক পাঠকদের এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেন যা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ঠাকুরবাড়ির জৌলুশের আড়ালে যে নীরব কান্না লুকিয়ে ছিল, তা উপলব্ধি করতে এই বইটি এক অনন্য দলিল। রবীন্দ্রপ্রেমী কিংবা জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য উপন্যাস।

মূল বিষয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর আত্মত্যাগ, অবদমিত বেদনা ও স্বকীয় আত্মপরিচয়ের সন্ধান

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

মৃণালিনী দেবী (ভবতারিণী): উপন্যাসের মূল চরিত্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্নী যার অন্তর্বেদনা ও আত্মত্যাগের গল্প ফুটে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বিশ্বকবি ও মৃণালিনীর স্বামী, যার সৃষ্টিশীল মহীরুহের তলে ঢাকা পড়ে মৃণালিনীর নিজস্ব সত্তা।

কাদম্বরী দেবী: রবীন্দ্রনাথের নতুন বৌঠান, ঠাকুরবাড়ির এক বিষাদময় ও প্রভাবশালী চরিত্র।

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: ঠাকুর পরিবারের কর্তা ও রবীন্দ্রনাথের পিতা।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে