সকল বই (Library)
আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র – প্যারীচাঁদ মিত্র বইয়ের প্রচ্ছদ

আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র

লেখক: প্যারীচাঁদ মিত্র

ডাউনলোড করুন
লেখকপ্যারীচাঁদ মিত্র
ক্যাটাগরিউপন্যাস / গল্প / কবিতা
প্রকাশনীরোজারিও অ্যান্ড কোম্পানি (ঐতিহাসিক প্রকাশনা)
প্রকাশ সাল1858
পৃষ্ঠা148 টি
ভাষাBangla

বইয়ের মূল বিষয়বস্তু

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল সামাজিক উপন্যাস ও কথাসাহিত্যিক মাইলফলক।
প্রথমবারের মতো সাধু ভাষার বদলে জীবন্ত কথ্য বা চলতি ভাষার সফল প্রয়োগ, যা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিত।
বাবু সংস্কৃতির ভণ্ডামি ও অসৎ সঙ্গের প্রভাবে বখে যাওয়া তরুণ প্রজন্মের সংকট উন্মোচন।
'ঠকচাচা' এবং 'মতিলাল' চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের বাস্তব ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্রায়ন।

সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ

'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক উপন্যাস। টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে প্যারীচাঁদ মিত্র তৎকালীন ধনী পরিবারের অতি আদরে বখে যাওয়া যুবসমাজ ও তাদের অবক্ষয়ের নিখুঁত রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন。

বই সম্পর্কে

প্যারীচাঁদ মিত্র ছদ্মনাম ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ হিসেবে ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন কালজয়ী উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’। বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এটি এক বৈপ্লবিক সংযোজন, কারণ এটিকেই বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক বা আদি উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়। উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক কলকাতার নতুন উদীয়মান ধনিক শ্রেণীর অন্ধ পুত্রস্নেহ, পারিবারিক শিক্ষা-সংকট এবং সামাজিক অবক্ষয় এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।

কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে ধনী বাবুরাম বাবুর আদুরে পুত্র মতিলাল। বাল্যকালে সুশিক্ষার অভাব এবং কৈশোরে কুসঙ্গের খপ্পরে পড়ে সে বিপথগামী হয়ে ওঠে। তাকে সুপরামর্শ দেওয়ার মতো মানুষ যখন অবহেলিত হয়, তখন সুবিধাবাদী ‘ঠকচাচা’র মতো চাটুকাররা পরিবারটিকে সর্বনাশের মুখে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত আঘাত ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মতিলালের শুভবুদ্ধির উদয় ও আত্মশুদ্ধি ঘটে।

এই গ্রন্থটির ভাষা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'আলালী ভাষা' নামে স্মরণীয় হয়ে আছে। সংস্কৃতঘেঁষা গুরুগম্ভীর সাধুরীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন মুখের ভাষাকে সাহিত্যে মর্যাদা দেওয়া ছিল এক দুঃসাহসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

রিভিউ / পাঠ প্রতিক্রিয়া

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস জানার জন্য ‘আলালের ঘরের দুলাল’ পাঠ অপরিহার্য। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, বরং উনিশ শতকের কলকাতার এক অমূল্য জীবন্ত দলিল। প্যারীচাঁদ মিত্র অত্যন্ত হাস্যরসাত্মক অথচ তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে তৎকালীন বাবু সমাজের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। চরিত্র নির্মাণে লেখক যে বাস্তবতাবোধ ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা বিশেষ করে 'ঠকচাচা' চরিত্রের ক্ষেত্রে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

উপন্যাসটির সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক এর ভাষাভঙ্গি। সংস্কৃত শব্দবহুল জটিল গদ্যের বিপরীতে প্যারীচাঁদ মিত্র কলকাতার প্রচলিত কথ্য ও মিশ্রিত ভাষার এক চমৎকার সুর তৈরি করেছিলেন। তবে আধুনিক উপন্যাসের মতো প্লটের জটিলতা বা মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা হয়তো এখানে পুরোপুরি পাওয়া যাবে না, কারণ এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নীতিশিক্ষা ও সমাজসংস্কার। তবুও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাহিত্যমূল্য প্রশ্নাতীত। বাংলা সাহিত্যের শিকড় অন্বেষণকারী যে কোনো পাঠকের জন্য এই ধ্রুপদী বইটি অত্যন্ত সুখপাঠ্য।

মূল বিষয়

উনিশ শতকের কলকাতার সমাজ বাস্তবতা, ধনিক পরিবারের অন্ধ সন্তানস্নেহের পরিণতি এবং নৈতিক সংস্কার।

চরিত্র / আলোচিত বিষয়

মতিলাল: উপন্যাসের মূল চরিত্র, ধনীর আদুরে ও বিপথগামী সন্তান।

বাবুরাম বাবু: মতিলালের বিত্তবান ও প্রশ্রয়দাতা পিতা।

ঠকচাচা: সুবিধাবাদী, কূটবুদ্ধিসম্পন্ন এবং স্বার্থপর সমাজপ্রতারক চরিত্র।

বরদা বাবু: সৎ, ন্যায়পরায়ণ শিক্ষক এবং আদর্শ চরিত্রের প্রতিনিধি।

বই পড়লে কী পাবেন?

  • মনোযোগ দিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে
  • বাংলা ভাষা ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে
  • চিন্তা, কল্পনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে
  • সাহিত্য, গল্প বা বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে
  • অবসর সময়কে জ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানো যাবে